starbangla.tv l tv channel l News & Program
Welcome
Login / Register

মতামত -সাক্ষাতকার


  • চেয়ারে কারো পশ্চাতদেশ একবার থিতু হলে বিচিত্র সমস্যার

    আল-আমীন,মেহেরপুর
    চেয়ারের লড়াই প্রাচীনকাল থেকে। এই চেয়ারের লড়াইয়ে কখনো রাজপথ, কখনো রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। আবারএই চেয়ার মানে হচ্ছে বান্দার উন্নতির সোপান। আর ক্ষমতার চেয়ারে একবার বসলে ছাড়তে মন চায়না বড়ই আরাম প্রিয় এ চেয়ার। চেয়ারের আভিধানিক নাম ’কেদারা’ ‘কেদারা’ বাংলা শব্দ ভান্ডারের অতি-অব্যবহারীত শব্দ যা প্রচলিত বাংলা হল চেয়ার। বর্তমান জেনারেশান শুদ্ধ বাংলা ‘কেদারা’ এই শব্দখানার সাথে কতটা পরিচিত ?

    চেয়ারের জন্য সবাই মরিয়া । বেশ আকর্ষণীয় আসন হচ্ছে চেয়ার। কখনো এসব চেয়ার রাতের অন্ধকারেও দখল হয়ে যায়। এপতন এতো দ্রুত গতিপ্রাপ্ত হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না এ চেয়ারে অবস্থানকারি মাত্র অনুভব করেন।তবেৃ..এই চেয়ার বা কেদারাখানি কারো পশ্চাতদেশ একবার থিতু হলে বিচিত্র সব সমস্যার উদ্ভব হয়ৃৃবিশেষ করিয়া ‘কেদারা’টি যদি কোন কারনে ক্ষমতার সহিত সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে।

    চেয়ারের কারণে কত তেলেসমাতি না ঘটে থাকে। ঘটে কূ-বুদ্ধি থাকলে কৌশলে বুদ্ধিহীন গুলো কে বসে রেখে চেয়ারে বছরের পর বছর থাকা মসনদে থাক যায়।চেয়ারের অনেক কারিশমা এই কারিশমা সাধারণ হাটবাজার থেকে শুরু করে শেয়ারবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সকল স্তরে। চেয়ারে বসে থাকার জন্য কত সত্য মিখ্যা আর অপকৌশল অবলম্বন করতে হয়।লোকে নানা সমালোচনায় মুখর হয়। তাতে কি তোরা যে যা বলিস ভাই ঐ চেয়ার অমার চাই।

    চেয়ারের রকম ফের আছে কেউ কেউ চেয়ারে গদি লাগান আরামের জন্য । কখন এ চেয়ার আরামের দোলন চেয়ার হয়।বাগান চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে বই পড়তে ভাল বাসেন।স্থান কাল পাত্রভেদে চেয়ারের আকৃতির ভিন্নতা আছে রাজা মহারাজাদের চেয়ারকে সিংহাসন বলা হয়ে থাকে।জমিদার বাবুর চেয়ার ধরন আলাদা কেরানির চেয়ার আলাদা গড়ন,আফিসের বড় সাহেবের চেয়ার আরেক রকম।

    পাঠক চেয়ার নিয়ে লেখার কারন হল চেয়ারের আধুনিক সংস্করন হচ্ছে, চেয়ার তো আর হাতে নিয়ে ঘোরা যায় না। বিজ্ঞানীরা এমন এক চেয়ার বানিয়েছেন যা কিনা পোশাকের মতো পরা যাবে। এটি খুলে নিয়ে অনায়াসেই চেয়ার পেতে একটু আরাম করে নিতে পারবেন।যার নাম ‘ওয়্যারেবল চেয়ার’ দারুণ এক ব্যাপার। আপনার বসার ব্যবস্থা নিজের দেহেই রেখেছেন ভাবতেই অবাক লাগে। এর বাস্তব রুপ দিতে চলেছে ‘আর্কিলিস’। জাপানি ভাষায় এর অর্থ চলমান যে কোনো স্থানে অনায়াসে দেহ থেক চেয়ারটি খুলে ব্যবহার করা যাবে।প্রাথমিক অবস্থায় ”আর্কিলিস ” বানানো হয় চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত সেই সকল মানুষের জন্যে, যারা প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে একটু বসে নেওয়ার ফুরসত পান না তাদের জন্য। বেশ কিছু দিন আগে ফক্স নিউজ এ সংবাদটি দেয় ।

    সংবাদটি পড়ে মনে হয়েছিল আহা বিজ্ঞানীরা যদি এমন চেয়ার বানাত চেয়ারে বসে আলাদিনের চেরাগের মত, ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকা মানুষ গুলোর জন্য, যা আঠার মত লেগে থাকত।আর তারা যা বলত সচেতন মানুষ গুলো হীরক রাজার দেশের মত শেখান বুলি তোতা পাখির মত বলত ।ওদের ক্ষমতার চেয়ার গলো কন্টক মুক্ত হত।

    Read more »
  • সারাদেশে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত

    দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা ১১ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৫। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। ঢাকার আগারগাঁওয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৪০৯ কিলোমিটার পূর্বে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মালাইক থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। রিখটার স্কেলে ভূকম্পনটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৩। ভূমিকম্পে দেশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    Read more »
  • রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট

      স্টার বাংলা.টিভি

    ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। বাংলার আকাশ বাতাস নিসর্গ প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল আকাশেরই অশ্রুপাত। ভেজা বাতাস কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। ঘাতকদের উদ্যত সঙ্গিনের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। অনির্বাণ সেই শোক এখনও বাংলায় নদীর স্রোতের মতো চির বহমান। কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে এ শোকের আগুন। ১৫ আগস্ট শোকার্দ্র বাণী পাঠের দিন, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী। পঁচাত্তরে এই দিন স্ত্রী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ ও এক সহোদর আত্মীয়-পরিজনসহ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১-এর পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের এই বর্বর হত্যাকা-ই তুলনীয় হতে পারে যেখানে নারী-শিশুসহ নির্বিচারে একটি বর্বর গণহত্যা চালানো হলো। একাত্তরে গণহত্যা করল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে গণহত্যা চালাল পাক হানাদারদেরই এদেশীয় দোসর সমর্থক কিছু বিশ্বাসঘাতক। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় আস্থাহীন দেশীয় কিছু রাজনীতিকের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু নৃশংসভাবে শহীদ হন সেই কালরাতে।  
    ১৫ আগস্টের নির্মম সেই হত্যাযজ্ঞে আরও নিহত হন বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, শিশু পৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী। জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এসব শহীদকেও।  
    বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তার মৃত্যু নেই। তিনি চিরঞ্জীব। কেননা একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি তিনিই। যতদিন এ রাষ্ট্র থাকবে, ততদিন অমর তিনি। সমগ্র জাতিকে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় প্রস্তুত করেছিলেন ঔপনিবেশিক শাসক-শোষক পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তাই চিরঞ্জীব তিনি এ জাতির চেতনায়। বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপে দর্শনে দেশের সংবিধানও প্রণয়ন করেছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। শোষক আর শোষিতে বিভক্ত সেদিনের বিশ্ববাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে 
    পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার যে ডাক দিয়েছিলেন তা অবিস্মরণীয়। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই অমর আহ্বানেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিপীড়িত কোটি বাঙালি। সেই মন্ত্রপূত ঘোষণায় বাঙালি হয়ে উঠেছিল লড়াকু এক বীরের জাতি।  
    আবার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেও বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠেই জাতি শুনেছিল মহান স্বাধীনতার অমর ঘোষণা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাকে বন্দি থাকতে হয় পাকিস্তানের কারাগারে। তার আহ্বানেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। বন্দিদশায় মৃত্যুর খবর মাথায় ঝুললেও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি অকুতোভয় এ মহান নেতা। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। বীরের বেশে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। 
    দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি দেশের মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করেন বঙ্গবন্ধু। দেশগড়ার এই সংগ্রামে চলার পথে তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তার দেশের মানুষ কখনও তার ত্যাগ ও অবদানকে ভুলে যাবে না। অকৃতজ্ঞ হবে না। নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু তাই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সাধারণ বাড়িটিতেই বাস করতেন।  
    মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পেতেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী উচ্চাভিলাষী কয়েকজন সদস্যকে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যবহার করেছে ওই চক্রান্তেরই বাস্তব রূপ দিতে। এরাই স্বাধীনতার সূতিকাগার বলে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে হামলা চালায় গভীর রাতে। হত্যা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে। বিশ্ব ও মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার মহত্তম আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলতে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাথার ইতিহাসও। বঙ্গবন্ধুর নৃশংসতম হত্যাকা- বাঙালি জাতির জন্য করুণ বিয়োগগাথা হলেও ভয়ঙ্কর ওই হত্যাকাণ্ডে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে। হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক সরকার। তবে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় মতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা এবং নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বিচার সম্পন্ন হয়। জোট শাসনের পাঁচ বছর এই রায় কার্যকরের পথে বাধা সৃষ্টি করে রাখা হলেও বর্তমান মহাজোট সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পাঁচজনের রায় কার্যকর হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। দণ্ড প্রাপ্ত কয়েক খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছেন।  
    জাতীয় শোক দিবসে কর্মসূচি : দেশব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিনটি পালনের জন্য সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।  
    ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস সরকারি ছুটির দিন।  

    Read more »
  • ‘এখনকার প্রযোজকরা নতুন ছেলে-মেয়েদের মাথা নষ্ট করে দিচ্ছেন’

    চলচ্চিত্রের প্রিয়মুখ চম্পা। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘লাল দরজা’, ‘টার্গেট’, ‘তিনকন্যা’, ‘লটারি’, ‘বিরহ ব্যাথা’, ‘নিষ্পাপ’, ‘সহযাত্রী’, ‘ভেজা চোখ’, ‘বাপ বেটা ৪২০’, ‘নীতিবান’, ‘কাশেম মালার প্রেম’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘অন্যজীবন’, ‘মনের মানুষ’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় ছবির অভিনেত্রী তিনি। প্রয়াত পরিচালক শিবলী সাদিক পরিচালিত সুপারহিট সিনেমা ‘তিনকন্যা’ দিয়ে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অভিনেত্রীর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি এ যাবৎ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাটকেও অভিনয় করেছেন চম্পা। গত এক বছর পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে দেশের বাইরে থাকায় অভিনয়ে তেমন সময় দিতে পারেননি এ অভিনেত্রী। দীর্ঘ সময় পর এ বছরের মা দিবসে একটি নাটকে অভিনয় করেন। এর নাম ‘জেরিন ও জলের গল্প’। প্রীত দত্তর রচনায় নাটকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন বিশ্বজিৎ দত্ত ও প্রীত দত্ত। নাটকটি প্রচারের পর বেশ সাড়া পান চম্পা। আসন্ন কুরবানী ঈদের জন্য আবারও কাজ শুরু করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে চম্পা মানবজমিনকে বলেন, এবারের কুরবানী ঈদে মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় ছয় পর্বের একটি কাজ করব। কয়েকদিন পরই কাজটি করতে নেপালে যাব। মাহফুজের নিজের প্রোডাকশন এটি। সহশিল্পী হিসেবে থাকবেন রিয়াজ। এটা ছাড়া আরও দুই-তিনটি নাটকের স্ক্রিপ্ট আমার কাছে এসেছে। এগুলো এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি। ভালো লাগলে আরও এক-দুইটা কাজ করতে পারি। বর্তমান প্রজন্মের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীকেই দেখা যাচ্ছে চলচ্চিত্রে। তবে তারা ঠিক মতো প্রতিষ্ঠা পাবার আগেই ঝড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে চম্পা বলেন, এজন্য নতুন ছেলে-মেয়েদের দোষ দিব না আমি। এখনকার প্রযোজকরা নতুন ছেলে-মেয়েদের মাথা নষ্ট করে দিচ্ছেন। যখন একটা নতুন ছেলে বা মেয়ে চলচ্চিত্রে আসে তখন তাকে প্রযোজক বা পরিচালকরা কাজ শেখানোর বদলে তার মাথা নষ্ট করে দেন। এই যেমন তাদের বলা হয় ‘তুমি হিরো হয়ে গেছো, তুমি হিরোইন হয়ে গেছো’। একটা ফুল ফোটার আগে এভাবে কলিতেই তারা মেরে ফেলছেন। পরিচর্যা না করে তাদের নষ্ট করে দিচ্ছেন তারা। এজন্য আমাদের গোড়াটা ঠিক করতে হবে। অল্প বয়সে যেভাবে তাদেরকে গড়া হবে সেভাবেই  তৈরি হবে তারা। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী হবার পেছনে তার নিজের চেষ্টার পাশাপাশি একজন প্রযোজক বা পরিচালকের সমান গুরুত্ব রয়েছে। হলে গিয়ে ছবি দেখা প্রসঙ্গে চম্পা বলেন, সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার মতো অবস্থা এখন আর নেই। দেশের বর্তমান অবস্থায় ঘরের কোণে বসে থাকতে হবে। চারিদিকে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই কাজ ছাড়া বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না। অনেকদিন পর পরিবারসহ কয়েকদিন আগে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে একটি ইংরেজি অ্যানিমেশন ছবি দেখেছি। বেশ ভালোই উপভোগ করেছি ছবিটি। বাংলাদেশের ছবি কি সিনেমা হলে গিয়ে দেখা হয় না? এমন প্রশ্নের জবাবে চম্পা বলেন, না অনেকদিন সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখা হয়নি। আমার অভিনীত ছবি ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ও দেখিনি সিনেমা হলে গিয়ে। এখনকার চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে চলচ্চিত্রের গল্পে অনেক পিছিয়ে আছি আমরা। কি ছবি দেখবো, সেই প্রাচীন আমলের টিনএজ প্রেমের মধ্যেই আটকে আছি আমরা। গল্পে তেমন বৈচিত্র্য নেই। এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবে আমার বিশ্বাস, চলচ্চিত্রের সুদিন একদিন ফিরবেই। চম্পা অভিনীত একটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত এ ছবির নাম ‘নকশিকাঁথার মাঠ’। সেটাও অনেকদিন হয়ে গেল। এই ছবির বর্তমান খবর কি জানতে চাইলে চম্পা বলেন, ‘নকশিকাঁথার মাঠ’ ছবির কাজ শেষ করেছি। বর্তমানে এ ছবির সংগীত সংযোজনের কাজ চলছে। দেশের বাইরে যাওয়ার আগে এর কাজ শেষ করেছি। এ ছবির গল্পটি খুবই সুন্দর। আশা করছি, খুব শিগগিরই এটি মুক্তি পাবে। নতুন ছবির বিষয়ে চম্পা জানালেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর একটি ছবিতে কাজের কথা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তার ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। এর আগেও তার ছবিতে অভিনয় করেছি।

    Read more »
  • কিছু সেলিব্রিটি মেয়ে তো ফাটাফাটি

    তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আজকাল আমার উৎসাহ নেই বললেই চলে। অমিতাভ বচ্চনকে ভীষণ ভালোবাসতাম। তাঁকে মনে হতো দুনিয়ার সবচেয়ে স্মার্ট পুরুষ। তারপর তাঁর ব্যক্তিজীবন ঘেঁটে যখন দেখলাম কিছু হলেই তিনি তিরুপতি মন্দিরে দৌড়োন, শুভ কিছু ঘটানোর জন্য কোটি কোটি টাকা মন্দিরে দান করেন, তখন মন ভেঙে গেলো। প্রিয় মানুষদের, ভেবেই নিয়েছিলাম, যুক্তি-বুদ্ধির অভাব নেই। বাস্তবটা বড় অচেনা আর অন্যরকম। প্রিয় মানুষদেরও তাই বড় দূরের মনে হয়। পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়াকে শুনেছি অমঙ্গল কাটাতে গাছের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। ঐশ্বরিয়া অত্যন্ত ভালো অভিনেত্রী, কিন্তু প্রতিবাদ করেনি। সুচিত্রা সেনকে তো কম ভালোবাসিনি, শুনেছি উনিও নাকি বেলুড় মঠে যেতেন প্রায়ই। পুজো আচ্চা নিয়ে থাকতেন। রাজ্জাকও দেখেছি ধর্মকর্মে ডুবেছেন, ববিতা বোরখা পরছেন, শাবানা তো শরীরে বোরখা চাপিয়েছেনই, এতকাল সিনেমা করাকে পাপ করেছেন বলে মনে করছেন। যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি তারকারা একেকটা কুসংস্কারের ডেঁপো।

    কিছুদিন হলো কিছু তারকা মেয়ের কথায় চমকে উঠছি। দিপিকা পাদুকোনের একটি ছবি ছাপা হয়েছিল টাইমস অব ইন্ডিয়ায়, ছবিটায় দিপিকার ক্লিভেজ দেখা যাচ্ছিল। তাই নিয়ে তুলকালাম। চারদিকে ছি ছি চলছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। দিপিকা সোজা বলে দিল, ‘আমার স্তন আছে, আমার ক্লিভেজও আছে, এ দেখা গেলে আমার তো কোনো অসুবিধে নেই, তোমাদের অসুবিধে হচ্ছে কেন?’ শুনে তো আমি ব্রাভো বলে চেঁচিয়ে উঠলাম।

    প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সেদিন বলেছে, ‘সন্তান জন্ম দিতে হলেই শুধু পুরুষকে প্রয়োজন, তাছাড়া জীবনে পুরুষের কোনো প্রয়োজন নেই।’ বাহ, এমন কথা একটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বড় হওয়া মেয়ের মুখে, বিশেষ করে তারকার মুখে শুনবো, আশা করিনি। তারকারা বিজ্ঞান পড়ে না, বিবর্তন সম্পর্কে কিছুই পড়ে না, নারীবাদীদের বইও পড়ে না, তারা দেশভর্তি অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষকে খুশি করতে ব্যস্ত থাকে এবং এমন কোনো কথা তারা বলে না, যা শুনে তাদের দর্শক আহত হয়। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা তার দর্শকদের খুশি করতে ব্যস্ত নয়। কে কী ভাববে তার পরোয়া করেনি।

    ওর কথা শুনে আমি তো রীতিমতো মুগ্ধ। এমন মেয়ের দেখা তারকাজগতে মেলে না বললেই চলে। তারকা মেয়েরাও এই সমাজেরই মানুষ, তাদেরও এই সমাজের মেয়েদের মতোই বিয়ে করতে হবে, ঘরসংসার করতে হবে, বাচ্চা কাচ্চা পয়দা করতে হবে, স্বামী সন্তানের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হবে— এই বিশ্বাস প্রায় সব তারকা এবং তাদের অনুরাগী দর্শকদের। এই বিশ্বাসের গায়ে আঘাত দিয়ে কথা বলা সহজ নয় খুব। প্রিয়াঙ্কা কঠিন কাজটিই করেছে। সেদিন সানিয়া মির্জাও আমাকে চমকে দিল। খবরটা এরকম : সানিয়া মির্জা তার আত্মজীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে সানিয়ার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন রাজদীপ সরদেশাই। রাজদীপ ভারত টেলিভিশনের বড় সাংবাদিক। নানা প্রসঙ্গের পর হঠাৎই তিনি জিজ্ঞেস করে বসেন, সানিয়া মির্জা কবে ‘থিতু’ হচ্ছেন? মা হওয়ার কথা ভাবছেন কি? বইয়ে কেন তিনি এ সব নিয়ে কিছু লেখেননি?

    উত্তরে সানিয়া বলে, ‘আপনি মনে করেন না আমি সেটল্ড?’ শুনে রাজদীপ বলেন, তাঁর বইয়ে সানিয়া অবসরোত্তর জীবন নিয়ে লেখেননি। লেখেননি, মা হওয়ার পরিকল্পনা বা পরিবার গড়ার প্ল্যান নিয়েও। যা শুনে সানিয়া সোজাসুজি বলেছে, ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, মা হওয়ার কথা না ভেবে আমি যে বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার বিকল্পটা বেছে নিয়েছি, তাতে আপনি প্রচণ্ড হতাশ!’ সঙ্গে যোগ করে, ‘তবু আমি এটার উত্তর দেব। বাকি মেয়েদের মতো আমাকেও বারবার এই প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়েছে। প্রথমে বিয়ে, তার পর মা হওয়া। এগুলো না হলে আমরা নাকি থিতু হই না! হতাশার ব্যাপার হলো, যতগুলো উইম্বলডনই জিতি, যতবার বিশ্বের এক নম্বর হই, আমরা থিতু হই না!’ সানিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন রাজদীপ। পরে যখন সানিয়াকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কীভাবে মানুষের মনে থাকতে চান, তখনো তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি সানিয়া। বলেছে, ‘আমি যেন এমন কিছু করতে পারি যাতে ২৯ বছরের কোনও বিশ্বসেরা মেয়েকে কেউ না জিজ্ঞেস করতে পারে, সে কবে মা হচ্ছে!’

    সানিয়ার এই সাক্ষাৎকার দেখে আমি এমনই উত্তেজিত ছিলাম যে রাজদীপ সরদেশাই-এর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক থাকার পরও আমি টুইটারে লিখেছি, ‘রাজদীপ স্টুপিড প্রশ্ন করেছে সানিয়াকে’। সানিয়ার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছি, কারণ সানিয়া খুব সত্য কথা বলেছে। এমন সত্য কথা ভারতীয় উপমহাদেশের তারকাদের মুখে আমরা শুনে অভ্যস্ত নই। তারকা মেয়েরা সাধারণত বলে সমাজের রীতিনীতি তারা খুব মেনে চলে। বিয়ের পর তারা স্বামী সন্তানে মন দেবে, তারা আর খেলবে না বা সিনেমা করবে না। বিয়ের পর কোনো পুরুষ তারকা কী করবে, থিতু হবে কিনা, সন্তান জন্ম দেবে কি না, এ ধরনের প্রশ্ন কিন্তু কেউ করে না। কেবল মেয়ের বেলায় কেরিয়ার ছাড়ার প্রশ্ন ওঠে। সফল অভিনেত্রী, গায়িকা, চিত্রপরিচালিকা, খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মন্ত্রী, ব্যবসায়ী মেয়েরাও নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারে না, তারা কার স্ত্রী, কার মেয়ে, কার মা, কার বোন— এসবের খোঁজখবর সবসময়ই চলে।

    সানিয়া মির্জার স্বামী শোয়েব মালিকও একজন তারকা খেলোয়াড়। তাকে কিন্তু কেউ, কোনো মেয়ে-সাংবাদিক, কোনো পুরুষ-সাংবাদিক প্রশ্ন করবে না শোয়েব ঘর সংসারে মন দেবে কবে, বাবা হবে কবে, থিতু কবে হবে। পুরুষেরা যত নিশ্চিন্তে নিজেদের কেরিয়ার গড়তে পারে, মেয়েরা তত নিশ্চিন্তে পারে না। পারে না বলা উচিত হবে না। মেয়েদের পারতে দেওয়া হয় না। সংসারটাকে মেয়েদের সবচেয়ে বড় কাজ বলে আজো অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে। মেয়েদের এক সময় ঘরবন্দী হতে হয়, বন্ধ করতে হয় বাইরের কাজ। অবশ্য পুরুষেরা চালিয়ে নিয়ে যায়। অমিতাভ বচ্চন চালিয়ে যান, জয়া ভাদুড়ি বন্ধ করেন। সুচিত্রা সেন বন্ধ করেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় চালিয়ে যান। কাজল বন্ধ করেন, অজয় দেবগণ চালিয়ে যান। এরকম অনেক উদাহরণ আমাদের চারদিকে। বয়স হয়ে গেলে মেয়েদের আর পাতে তোলা যায় না, কিন্তু বয়সটা পুরুষের জন্য কোনো বিষয় নয়। ঠিক না? ঠিক, কারণ সমাজের মানুষগুলোকে এই বৈষম্যের ধারণা নিয়ে আমরা বড় হতে দিই, এভাবেই তাদের হাতে সমাজকে আমরা গড়তে দিই এবং এভাবে এখনো সমাজকে চলতে দিই।

    হ্যাপি নামের এক মেয়েকে দেখতাম ক্রিকেটার রুবেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বেশ সাহসী কথাবার্তা বলছে ফেসবুকে। সমাজ ছি ছি করে বলে যে কথাগুলো মেয়েরা সাধারণত লুকোয়, কিছুর তোয়াক্কা না করে হ্যাপি সে কথাগুলোই জোরেশোরে সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়েই বলেছে। তারপর কী হলো কে জানে, হঠাৎ সে উধাও। ক’দিন পর দেখি আপাদমস্তক বোরখায় ঢেকে মুখে ধর্মীয়তত্ত্ব আওড়াচ্ছে। লোকে তাকে খারাপ মেয়ে ভেবেছিলো, তাই লোকের চোখে ভালো হওয়ার জন্য ধর্মের আশ্রয় নিয়েছে সে। বড় মায়াই হয়, নিজের সকল প্রতিভা, সকল সম্ভাবনা সব বিসর্জন দিতে হলো তাকে। হ্যাপি যে এদিকে রুবেলের গোপন সব কথা ফাঁস করে দিল, তার পরও কিন্তু কেউ রুবেলকে খারাপ ছেলে মনে করেনি, আর নিজেকে লোকের চোখে ভালো প্রমাণ করার জন্য রুবেলকে আপাদমস্তক আবৃত করতেও হয়নি। সে দিব্যি তার জীবনযাপন করছে, যেমন করছিল। শুধু হেরে যেতে হলো হ্যাপিকেই।

    মেয়েদেরই হেরে যেতে হয়। সেদিন পাকিস্তানের সেই মডেল-মেয়ে কান্দিল বালোচকে হারিয়ে দিল পাকিস্তানের সমাজ। তার আপন ভাই তাকে বিষ খাইয়ে, শ্বাসরোধ করে হত্যা করলো। কান্দিল নাকি সমাজের রীতিনীতি মেনে চলছিল না। যে সমাজ মেয়েদের স্বাধীনতার পথে বাধা, সেই সমাজকে মেনে চলার কোনো যুক্তি নেই। যে মেয়েরা শত ধিক দেবে সেই পুঁতিগন্ধময় সমাজকে, সেই সমাজের রীতিনীতিকে পায়ে মাড়িয়ে যাবে, সে মেয়েরাই সামনে এগোবে, সেই মেয়েরাই আমাদের গর্ব, সেই মেয়েরাই ভবিষ্যৎ।

    সব মেয়ে হেরে যায় না। দিপিকা, প্রিয়াঙ্কা, সানিয়ারা কিন্তু হেরে যাচ্ছে না। এদের দেখেই আত্মবিশ্বাস আর আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শিখুক মনোবলহীন তারকা-মেয়েরা।

    লেখক : নির্বাসিত লেখিকা।

    - See more at: http://www.bd-pratidin.com/editorial/2016/07/21/158103#sthash.0dExJT6T.dpuf

    Read more »
RSS
উপদেষ্টা : এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন
কৃষিবিদ এম. সগিরুল ইসলাম মজুমদার ( জাপান)
প্রধান সস্পাদক: ডা: এম এ মতিন,
সম্পাদক: মো: জিয়াউল ইসলাম
সহ-সম্পাদক: নেছার উদ্দিন মজুমদার
অফিস: ৩৫ পুরানা পল্টন লাইন নীচতলা, ভি আই পি রোড ঢাকা-১০০০
ফোন: ০১৭২৭৯৩২৬৫২, ৯৩৫৪৯৯
জাপান ডেক্স +৮১৯০৬৮৬৩৪৭৩৩২
ইমেইল: videostarbanglatv@gmail.com