starbangla.tv l tv channel l News & Program
Welcome
Login / Register

সাহিত্য


  • চুয়াডাঙ্গায় কাজী হায়দার স্বর্ণপদক পেলেন কিংবদন্তী ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা


    চুয়াডাঙ্গা থেকে সালেকিন মিয়া সাগর :
    চুয়াডাঙ্গার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কাজী হায়দার স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ পদক পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার কিংবদন্তী ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা। ছড়া সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক তার গলায় পরিয়ে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। সাথে ১০ হাজার টাকার নগদ অর্থ পুরস্কার।
    একই সাথে জেলা লেখক সংঘ আহাদ আলী মোল্লাকে ছড়াসম্রাট উপাধিতে ভূষিত করে। দু বছর পর পর শিক্ষা-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য জেলার একজন কৃতিসন্তানকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পুরস্কারসহ এ পদক প্রদান করা হবে। যার ব্যয়ভার বহন করবে কাজী হায়দার পরিবার। প্রথমবার এ পদকপ্রাপ্ত আহাদ আলী মোল্লা দৈনিক মাথাভাঙ্গার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক মাথাভাঙ্গার টিপ্পনী কলামের লেখক।
    আজ সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে কাজী গোলাম মোস্তফা হায়দারের চতুর্থ স্মরণসভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা লেখক সংঘের সভাপতি হায়দারপতœী ডা. শাহীনূর হায়দার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু। বিশেষ আলোচক ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তূজা,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংঘের উপদেষ্টা কাজী বদরুদ্দোজা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ , লেখক সংঘের সহসভাপতি ওমর আলী মাস্টার প্রমুখ।
    অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথী আহাদ আলী মোল্লা জেটিভির এক সাক্ষাত কালে বলেন আজ জেলার বৃহত্তর একটি সাহিত্য সংগঠন থেকে আমি মূল্যায়িত হলাম। এই প্রাপ্তি আমাকে আরও উজ্জীবিত ও প্রাণিত করবে। আমি বৈচিত্রপূর্ণ ও নিরীক্ষাধর্মী ছড়া সৃষ্টির মাধ্যমে ছড়া সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে চাই। আমার এই স্বীকৃতি একদিন জাতীয় স্বীকৃতিতে সহায়ক হবে এবং কাজী পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই।

     

     

     

     

    <iframe width="560" height="315" src="https://www.youtube.com/embed/EUaJeHcOko8" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

    Read more »
  • বই পড়লে আয়ু বাড়ে!

    বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে, ধৈর্য বাড়ে, চিন্তা শক্তির প্রসারণ ঘটে, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু, অনেক জটিলতার মুশকিল আসান হয়। প্রচলিত ধারণা বইপোকা হওয়ার অনেক সুবিধা। এবার জানা গেল বই পড়ার আরও একটি চমৎকার গুণের কথা। বই পড়লে আয়ু বাড়ে। ফলে যাঁরা বই পড়েন বেশি, তারা অন্যদের তুলনায় আয়ু বেশি। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে একটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষায়।
    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েল ইউনিভার্সিটি ৩ হাজার ৬৩৫জন ৫০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তির উপর সমীক্ষাটি চালিয়ে এই তথ্য জানায়। যাঁরা একেবারেই বই পড়েন না,
    সপ্তাহে অন্তত সাড়ে ৩ ঘণ্টা বই পড়েন যাঁরা, সপ্তাহে সাড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি বই পড়েন যাঁরা তাদের নিয়ে এই তিনটি ভাগে গবেষকরা পরীক্ষা করেন।
    যাঁরা একেবারেই বই পড়েন না বা সপ্তাহে অন্তত সাড়ে ৩ ঘণ্টা বই পড়েন, তাঁদের আয়ু তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, যাঁরা সপ্তাহে সাড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি বই পড়েন, তাদের আয়ু ২৩ শতাংশ বেড়ে যায় বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
    সমীক্ষায় আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। পুরুষদের তুলনায় মহিলা বইপ্রেমীদের সংখ্যা বেশি। কলেজে পড়েন যাঁরা, সেই সংখ্যাটিও নেহাত কম নয়। উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও বই পড়ার রেওয়াজ তুলনামূলক বেশি। ইইনাডো ইন্ডিয়া

    Read more »
  • আল মাহমুদ : কিভাবে সময় কাটে তাঁর

    রাত্রির নিঝুমতার সাথে মিশে যান তিনি। কখনো ঘুম নামে চোখের পাতায়। কখনো অঘুমো চোখ। ঘুমহীন থাকলেই জেগে ওঠে ভাবনার পৃথিবী। মনে পড়ে তাঁর সঙ্গিনীর কথা। কী বিশাল স্মৃতি রেখে চলে গেছেন তিনি। তার শূন্যতা দীর্ঘ হয়ে ওঠে কবির বুকে

    সময়ের কথাই বলি। তাকে বেঁধে রাখা যায় না। জীবনকেও না। কে বড়? সময়? নাকি জীবন? ধরলাম জীবনই বড়! তাহলে সময়! সময়কে বাদ দিলে কি থাকে জীবনের! তাহলে কি সময়ই জীবন! এ জিজ্ঞাসা চিরদিনের। জীবনকে মানুষ এভাবেই প্রশ্ন করেছে আজীবন। তার কি আছে সমাধান? না। কোনো সমাধান নেই। বংশপরম্পরায় এ প্রশ্ন থেকেই যাবে। যেমন আছে আজো।
    সময় বয়ে যায় তার স্বভাবে। নদী যেমন বয়ে যায় নিজস্ব ধারায়। তবে প্রতিটি মুহূর্ত মানুষের জীবনে নতুন। প্রতিটি সকাল দুপুর সন্ধ্যা কিংবা রাত্রি নতুন। সময় নিজেকে কখনো পুরনো করে না। সময়ের যাঁতাকলে শুধু মানুষগুলো পুরনো হতে থাকে।
    শেষপর্যন্ত কর্মই মানুষের জীবন। সময়কে মানুষ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে কর্মের খাতিরে। এভাবেই কর্মই হয়ে ওঠে মানুষের জীবন।
    জীবনকে খরচ করে-করে মানুষ বানায় কর্মের সৌধ। ফেলে আসা জীবনের দিকে তাকালে এ সৌধ দৃশ্যমান হয়। কোনো মানুষের নিজের কর্ম যখন আনন্দ দেয় নিজেকে, তখন আত্মতৃপ্তি জাগে মনের ভেতর। তখন মনে হয় আহ্! এইতো আনন্দময় অর্থপূর্ণ জীবন আমার।
    নিজের কর্ম সম্বন্ধে তৃপ্ত একজন মানুষ আল মাহমুদ। অতৃপ্তি যে নেই তাও নয়। তবে পরিতৃপ্তির ঢেঁকুর তাঁর সমৃদ্ধ। তাঁর এ তৃপ্তির পৃথিবীজুড়ে আছে তাঁরই রচনাভাণ্ডার।
    তিনি একজন কবি। তাঁর খ্যাতি ঈর্ষণীয়। তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব পৃথিবী। তার পৃথিবী বর্ণিল উৎসবে রাঙা। অন্য সুন্দরে মণ্ডিত। স্বপ্নময় জীবনের হাতছানি এবং জীবন ও জগতের রহস্যময় মুখ।
    একজন কবির জগৎ কেমন? কী তার রঙ? কী তার রূপ? কিভাবে নিজের জগতে বসত করেন তিনি? আর দশটি জীবনের মতো কবির জীবনও কি নিত্য জোয়ারে ভাসে। প্রতিদিনের জীবন যাত্রায় কবিও কি সাধারণ মানুষের মতো?
    হ্যাঁ, সাধারণ মানুষের মতো তিনিও খাবার গ্রহণ করেন। তিনিও ঘুমান। বিচরণ করেন একই সমাজে। পরিবার পরিজন থাকে তাঁরও। তাঁরও থাকে নিত্য প্রয়োজন।
    তবে ব্যবধান? ব্যবধান চিন্তার জগতে। ব্যবধান ভাবনার ঐশ্বর্যে। ব্যবধান দৃষ্টির প্রাচুর্যে। একজন কবি যেভাবে ভাবেন, যেভাবে চিন্তার পাখা বিস্তার করেন, তাতে তিনি হয়ে ওঠেন অনন্য। হয়ে যান অনেকের মধ্যে অন্যতম। 
    সব মানুষের মনেই ডানা ঝাপটায় স্বপ্নের পাখি। বুকের ভেতর স্বপ্ন পোষে মানুষেরা। সেই স্বপ্ন থেকে যায় একান্ত ব্যক্তির ভেতর।
    একজন কবি শুধু স্বপ্ন দেখেন তা-ই নয়। স্বপ্নের ঘোর পেয়ে বসে তাকে। তিনি তার স্বপ্নকে ভাষার শরীরে নির্মাণ করেন। ফলে তার স্বপ্ন হয়ে ওঠে সবার। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেন না। দেখানও। 
    একজন কবির কাজ তার জাতিকে স্বপ্ন দেখানো- এ কথা আল মাহমুদই বলেন। বলেছেন বহুবার। বলেছেন- তিনি তার জাতিকে সাধ্যমতো স্বপ্ন দেখানোর সাধনা করেছেন। 
    সেই আল মাহমুদ তিনি নুয়ে আছেন বার্ধক্যের ভারে।
    বার্ধক্যের ছোবল যখন কামড় বসায় শরীরে, তখন স্বাভাবিক জীবন থাকে না মানুষের। তখন জীবন চেপে বসে মানুষের ওপর। স্বচ্ছ চোখ দু’টি ঘোলা হয়ে যায়। দীর্ঘ কুয়াশার মতো অস্পষ্ট হয়ে ওঠে দৃষ্টি। ভাঁজ পড়ে সারা শরীরের চামড়ায়।
    আহা যৌবন! আহা লাবণ্যময় সেই সুন্দর! বার্ধক্যের জীর্ণতায় মুছে যায় যৌবনের সব দ্যুতি। প্রশ্ন জাগে কে বেশি ক্ষমতাবান? যৌবন? নাকি বার্ধক্য?
    দেখছি বার্ধক্যের কাছেই হেরে যায় যৌবন। জীবনের এ জ্বরাগ্রস্ত সময়ের কাছে অসহায় হয়ে ওঠে যৌবনের চোখ। এভাবে বন্দী সময়ের হাতে মানুষ। সময়ের দাঁতে বিক্ষত মানুষ এভাবেই হয়ে ওঠে অসহায়।
    হয়তো বার্ধক্যেরও সৌন্দর্য আছে। আছে শিল্পকলা। সেই সৌন্দর্য সেই শিল্পকলায় থাকে বেদনার দাগ। থাকে দীর্ঘশ্বাসের টান। থাকে স্মৃতির ভাণ্ডার। একজন মানুষের বার্ধক্য এক জীবনের অভিজ্ঞতার পুঁজি। সে পুঁজি দ্যুতি ছড়ায় উত্তর প্রজন্মের অভিসারে।
    আল মাহমুদ উত্তর প্রজন্মের কাক্সিক্ষত পুরুষ। কিভাবে কাটে তার মুহূর্তগুলো। কিভাবে তিনি জেগে থাকেন সময়ের শরীরে। লেখনইবা কিভাবে? ৮১ বছর বয়সে এসে জীবনকে কতটা স্বাভাবিক রাখা যায়? তাঁর ঘুম যখন ভাঙে তখন সকাল ৯টা পেরিয়ে যায়। পৃথিবীর ঘুম ভাঙলেও কবির ঘুম তখনো লেগে থাকে চোখে।
    ঘুম ভাঙে তাঁর। পৃথিবীর আলোয় চোখ রাখেন। কিন্তু আলোর সৌন্দর্য অবলোকনের দৃষ্টি নেই তাঁর। দুর্বল শরীর টেনে একা একা ওঠে বসার শক্তিও যে নেই তাঁর।
    বড় ছেলের সংসারে থাকেন তিনি। পরিবারের কারো না কারো হাত তাঁকে সাহায্য করে। ধুয়ে দেন হাত মুখ। তারপর নাস্তার পালা। রুটি, ডিম, কলা যেটুকু তার সাধ্যে কুলায় খেয়ে নেন। কখনো কখনো মন চাইলে এককাপ চা পান করেন। ইচ্ছে হলে চেয়ে নেন ধরানো একটি বেনসন সিগারেট।
    তারপর তিনি একাকী। একাই থাকেন যতক্ষণ ইচ্ছা। এ সময় বিস্তার করে ভাবনার ডালপালা। কত রকম ভাবনা মুখ তোলে মনের আয়নায়। এসব ভাবনার বেশি অংশই স্মৃতির সাথে জড়ানো। ফেলে আসা দিনগুলোর কানাগলিতে ঢোকেন কখনো। কখনো হাঁটেন স্মৃতির রাজপথে। ভাবতে ভাবতে হয়তো আবার ঘুমিয়েও পড়েন। সামান্য সময়ের জন্য। জেগে ওঠেন আবার। আবার সেই স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ভিড় করে মনের ভেতর। বেশির ভাগ সময় শুয়েই কাটে। মাঝে মাঝে অল্পক্ষণ বসেন। তখন জানালার ফাঁক গলে ঘোলা দৃষ্টি বাইরের পৃথিবীতে উড়ে যায়। তখনো মনের ভেতর ফেলে আসা জীবনই উঁকি দেয়। জীবন সম্বন্ধে নতুন দৃষ্টিও জাগে তখন। একটি দীর্ঘশ্বাসের মতো কিভাবে শেষ হয়ে যায় মানুষের জীবন। 
    এর মধ্যে পরিবারের লোকজন উঁকিঝুঁকি দিয়ে যায়। কিছু প্রয়োজন কিনা জিজ্ঞেসও করেন। কখনো সামান্য পানি। কখনো আরেকটু চা’র কথা বলেন। কখনো প্রয়োজন নেই বলেই ইঙ্গিত দেন। আবার কখনো চুপ করে চেয়েই থাকেন কেবল।
    একসময় গোসল, দুপুরের খাওয়া-দাওয়া, নামাজ শেষ করেন। আবার বিশ্রামের পালা। নীরবে একাকী শুয়ে থাকেন। চোখে ঘুম কখনো নামে। কখনো নামে না। তবুও শুয়ে থাকেন। শুয়ে থাকা ছাড়া তাঁর যে আর কোনো অবস্থান নেই। ইচ্ছেমতো বসে থাকা অথবা খানিকটা হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ তাঁর শরীর তাঁকে দিতে রাজি নয়। ফলে শরীরটা বিছানার বুকে এলিয়ে দেয়ার বিকল্প কিছু নেই। বিকেল থেকেই সময়টা ভালো কাটে তাঁর। এ সময় তাঁর ভক্তকুলের আসা শুরু হয়। কেউ খোঁজখবর নিতে আসেন। কেউ কুশল বিনিময়ের জন্য আসেন। কেউ আসেন খোশগল্প নিয়ে। এভাবে সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যায় চা-নাস্তা করেন। লেখালেখির কাজটাও করেন সন্ধ্যায়। মিডিয়ার লোকজনও সন্ধ্যার সময়টাই বেছে নেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সাময়িকীর পক্ষ থেকে লেখার চাহিদা নিয়ে আসেন কেউ কেউ। শরীর ভালো থাকলে লেখেন। লেখেন পত্রিকার চাহিদানুযায়ী। কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ অথবা কোনো স্মৃতিধর্মী লেখা।
    কিভাবে লেখেন তিনি। তাঁরতো দৃষ্টি ক্ষীণ। কলম ধরার মতো কবজির মজবুতিও নেই। লেখার জন্য বসাটাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তবে? লেখার মতো অসাধ্য কাজ কিভাবে চালিয়ে যান তিনি? এ কৌতূহল অনেকের।
    ডিকটেশন দিয়েই লেখেন তিনি। তিনি বলেন। কোনো তরুণ অথবা তরুণী লেখেন। কবিতার মতো একটি কঠিন শিল্পও তিনি বলার ভেতর দিয়ে সম্পন্ন করেন। এভাবেই লিখে ফেলেন আস্ত উপন্যাস, আত্মজীবনী, গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া ইত্যাদি।
    ডিকটেশন দিয়ে ২০টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। লিখছেন মহাকাব্যের মতো দীর্ঘ কবিতা। কবিতার ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম বিষয় ঘটে তাঁর; যা অন্য লেখার ক্ষেত্রে ঘটে না। তিনি কবিতার লাইন বলে যান!
    কোথাও কোথাও খানিকটা থামেন। ভাবেন। আবার বলেন। বলতে বলতে একসময় ঘোষণা করেন শেষ। সত্যিই বিস্ময়। শেষ হলো কবিতা! এখন কবিকে পড়ে শোনানোর পালা। কান পেতে শোনেন। শুনবেন এটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের কবিতা শুনে দু’চোখের অশ্রু ক্রমাগত ঝরাবেন এটা তো স্বাভাবিক নয়। এটি অবাক হবার মতোই ঘটনা। এ অবাক ঘটনাই ঘটে তাঁর। তিনি কাঁদেন। যতক্ষণ কবিতা পাঠ চলে ততক্ষণই তিনি শিশুর মতো ফুঁফিয়ে কাঁদতে থাকেন। এ এক অন্যরকম দৃশ্য। না দেখে বিশ্বাস করা কঠিন। একজন কবি তাঁর লেখা কবিতা শুনে এভাবে কাঁদবেন কেনো? কেনো ঢেউ তাঁর চোখে আছড়ে পড়ে। একি কবিতাপ্রেম! নাকি একজন কবিজীবনের অন্য রূপ। যাই বলি, তাঁর অশ্রু এভাবেই ভিজিয়ে দেয় তাঁর কবিতার শরীর। 
    আল মাহমুদ যে বয়সে পৌঁছে গেছেন এ বয়সে কারো তেমন বন্ধু থাকে না। তাঁরও নেই। আছে পাঁচ ভক্তকুল। কবিতাপ্রেমী পাঠকেরা। ফলে বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে কেউ আর তাঁর কাছে আসেন না। যদিও তরুণদের কাউকে কাউকে তিনি বন্ধু পরিচয় দেন।
    সন্ধ্যার পর তাঁর সময়টা সবচেয়ে ভালো কাটে। সন্ধ্যায় কোনো কোনো টিভি চ্যানেল হাজির হয়। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান অথবা তাঁর সাক্ষাৎকার ধারণ করে। কাউকে ফেরান না তিনি। ক্লান্তি তাঁর শরীরে লেগেই থাকে। অথচ তিনি ক্লান্ত নন। তিনি দিয়ে যান সাক্ষাৎকার। লিখে যান কবিতা। আবার আড্ডার সময়টাও আনন্দে ভরে ওঠে।
    স্বাভাবিকভাবে সব কিছু করার শক্তি নেই তাঁর। কিন্তু লেখার বিষয়ে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন তিনি। তখন মনে হয় চিন্তাশক্তি তীক্ষ্ণ। ধারালো। এবং সচেতন। স্মৃতিশক্তিও তখন অন্যমাত্রা পায়।
    এভাবে লেখা, সাক্ষাৎ আর আড্ডার ভেতর দিয়ে তাঁর সন্ধ্যা রাত হয়ে ওঠে। প্রায় রাতের ১০টা নাগাদ এমন অবস্থা চলতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি আবার একাকিত্বের আসরে হাজির হন। রাতের খাবার সেরে নামাজ পড়ে ঘুমাতে যান। রাত্রির নিঝুমতার সাথে মিশে যান তিনি। কখনো ঘুম নামে চোখের পাতায়। কখনো অঘুমো চোখ। ঘুমহীন থাকলেই জেগে ওঠে ভাবনার পৃথিবী। মনে পড়ে তাঁর সঙ্গিনীর কথা। কী বিশাল স্মৃতি রেখে চলে গেছেন তিনি।
    তার শূন্যতা দীর্ঘ হয়ে ওঠে কবির বুকে। অন্ধকারের সাথে মিশে থাকেন তিনি। ভাবেন কখনো- অন্ধকার থেকে আসে মানুষ। আবার অন্ধকারেই হারিয়ে যায়।

    - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/135661#sthash.JY5wJGAz.dpuf

    Read more »
  • কেমন প্রেমিক পছন্দ মেয়েদের

    ভালোবাসা দুটি মনের সমষ্ঠি। ছেলেরা সাধারণত বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এক কথায় নম্র-ভদ্র মেয়ে খুজে! বিস্তারিত নাহয় পরে একদিন খুলে বলা যাবে। আজ নাহয় জেনে নেই মেয়েরা কেমন ধরণের ছেলে পছন্দ করে। সাধারণত, আমাদের দেশে মেয়েদের মতামতের তোয়াক্কা অতটা না করলেও এখন সময় বদলেছে অনেক। তাহলে আসুন আজ জেনে নিই, মেয়েরা কি ধরণের পুরুষ পছন্দ করে,

    ✯ মানসিকভাবে শক্ত: মনে করুন মেয়েটার আঙ্গুল কেটে গেলো! অনেক ভালোবাসেন বুঝাতে, আপনি কেঁদে কেটে তাকে রিকশা করে নিয়ে গেলেন ডাক্তারের কাছে। এবং চিন্তায় পাগলপ্রায়।মেয়েটা যদি খুব বেশী আহ্লাদী না হয়, সে এটা পছন্দ করবে না। বেশীরভাগ মেয়েরাই পছন্দ করে না। মেয়েরা সাধারণত শক্ত মানসিকতার, মনোবল সমৃদ্ধ পুরুষ পছন্দ করে। তবে তাই বলে, আপনি যে তাকে ছুড়ে ফেলবেন তাও না। বরং নিজের জানা প্রাথমিক চিকিৎসা দিন, অবস্থা গুরুতর হলে বা ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    ✯ প্রচন্ড হ্যাংলা বা শুকনা মেয়েরা খুব একটা পছন্দ করেনা। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য মেয়েদের কাছে খুব বড় একটা ব্যপার না। কিন্তু, শতকরা আটাত্তর ভাগ মেয়ে শক্ত-সামর্থ্য এবং পেশীবহুল পরুষ পছন্দ করে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য সেটা অতো জরুরী নয়।

    ✯ সুক্ষ্ণ রসবোধ থাকা মেয়েরা পছন্দ করে। তবে হ্যাংলা নয়। গম্ভীর মুখে সাধারণ কথায় যিনি অন্যদের হাসিতে লুটোপুটি খাওয়াতে সক্ষম, মেয়েরা তাদেরই পছন্দ করে। তবে তার মানে এই নয় যে, আপনি কথায় কথায় জোকস বলা শুরু করবেন। বেশীর ভাগ মেয়েই এটা তেমন একটা পছন্দ করে না।✯ গাম্ভীর্য্য বলতে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ বোঝে মুখ গোমড়া করে থাকা। মোটেই তা নয়। মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের গাম্ভীর্য্য পছন্দ করে যখন ছেলেটাকে তার বান্ধবীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নিয়ে যায়।কখনোই বান্ধবীদের সাথে সুক্ষ্ণ রসবোধে মেতে উঠবেন না। হাসির কিছু হলে মুচকি হাসুন। কিন্তু কখনোই তাদের হাসানোর জন্য রসবোধে মেতে উঠবেন না।✯ মেয়েটি যখন তার পরিধেয় বা গয়না সম্পর্কে কিছু বলতে থাকবে! কখনোই থামিয়ে দেবেন না। বরং তাকে বলুন, কিসে ভালো লাগে, কিসে নয়।✯ তার কথা সবসময় মন দিয়ে শুনবেন। হয়তো আপনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই ওতে। কিন্তু তবুও শুনে যান।এবং টুকটাক প্রশ্ন করুন! পরে বুদ্ধি খাটিয়ে মোড় ঘুরিয়ে ফেলুন।✯ মা-বাবার ব্যপারে শ্রদ্ধাশীল হোন।নিজের এবং তার পরিবারের ক্ষেত্রেও। কিন্তু মা ন্যাঁওটা হবেন না! মেয়েরা সে ধরণের ছেলে পছন্দ করেন না।

     

    ✯ তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিন। তবে অবশ্যই পজিটিভ ভাবে।

    ✯ সবসময় কথা বলুন। ফোনে সে চুপ থাকলেও বলেই যান। তার পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা
    করুন।তার সাথে গল্প করুন। কখনো মাঝখানে কোনো শুণ্যস্থান রাখতে দেবেন না।

    ✯ প্রতিটি মেয়েই কিন্তু এক একজন অভিনেত্রী। বিষয় হল এই-জরিপে দেখা গেছে, বেশকিছু বিবাহিত দম্পতির মধ্যে ৮০% স্বামী আবার বিয়ে করার সুযোগ পেলে আগের স্ত্রীকেই বিয়ে করতে চায়। অথচ একই দম্পতিদের মধ্যে স্ত্রীদের ৬০% আগের স্বামীকেই চেয়েছে। এখানে মাত্র ২০% এর গ্যাপ!!! এই ২০% রমণী অতি ভালো অভিনেত্রী!! কেননা তাদের স্বামীরা তাদের নিয়ে সুখী!!! মেয়েদের যাতে অভিনয় করতে না হয় এজন্য পুরুষরা একটা কাজ করতে পারেন, প্রতিদিন জিজ্ঞেস করতে পারেন,’কেমন আছ? কাল ভালো ঘুম হয়েছে?’ হয়ত সে বলবে,’ধুর একই কথা প্রতিদিন!’ কিন্তু আপনাদের বলছি- কথাটা শুনতে সে খুব ভালোবাসবে!! এবং তার অনেক সমস্যা হয়ত আপনাকে জানাবে।

    ✯ সবসময় তাদের বোঝান কতোটা স্পেশাল তারা। কিন্তু কখনোই সহজভাবে, “তুমি আমার সব! তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি!” বলে শেষ করে দেবেন না! তাদের বুঝান সেটা। অনেক টেনশনের মুহূর্তেও কখনো চুল থাকবেন না।তাদের জানান, বুঝান যে তাদের মতামত আপনার দরকার।

    ✯ গিফট সম্পর্কের বেশ বড় একটা ধাপ! কেমন গিফট দিতে পারেন সে সম্পর্কে আরেকদিন আলোচনা করবো! সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে!তার আগেই জানাবো। গিফটের জন্য বিশেষ দিনে প্রয়োজন নেই। হঠাৎ হঠাৎ তাকে গিফট দিয়ে চমকে দিন। পনেরো বিশ টাকা তো রোজ খরচ হয়ই। একটা দিন সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে, ফুটপাত থেকেই নাহয় তাকে একটা পায়েল কিনে দিন! দেখুন কি খুশী হয়। আর গিফটের কারণ হিসেবে মজার কিছু বলুন। হয়তো দুজনে গল্প করছেন। তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে, পাশেই কোনো দোকান থেকে একটা মেহেদীর টিউব কিনে আনুন। বলুন তার হাতে মেহেদী দেখতে ইচ্ছে করছে। এরকম হঠাৎ হঠাৎ সারপ্রাইজে চমকে দিন তাকে।

    মিষ্টি-মধুর দুষ্টুমিতে মেতে উঠুন

    ✯ চিঠি লিখুন। নানা রঙের কিছু কাগজ কিনে আনুন। তার মাঝে লিখুন। নিজেই খাম বানিয়ে ভরে দিন। হয়তো কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে বসেছেন। সেখানের টিস্যু পেপারে লিখুন, আজ তাকে সুন্দর লাগছে। বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসার আগে, হাতে ধরিয়ে দিন খুশী হবেন।

    ✯ রোমান্টিক মুভি দেখুন প্রচুর, ভালো না লাগলে মিউজিক ভিডিও, রোমান্টিক গান, গল্প পড়ুন। তবে তার সাথে সবসময় কাব্য করতে যাবেন না।

    ✯ যদি এখনো প্রেম না হয়ে থাকে, তাকে সবসময় বোঝানোর দরকার নেই, আপনি তার জন্য পাগল। মাঝে মাঝে চেয়ে থাকুন এক দৃষ্টিতে তার দিকে, ভালোবাসা থাকলে দৃষ্টিই যথেষ্ট খেয়াল করুন, মাঝে মাঝে সে আড়চোখে দেখে কিনা, যে আপনি তাকে দেখছেন কিনা।মেয়েরা খুব একটা হেয়ালী পছন্দ করেনা।

    ✯ যখন তার পাশে থাকুন,সবসময় হাসি-খুশী থাকুন, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলুন। নিজের কোনো গোপন কথা তার সাথে বলুন। যাতে সে নিজেকে গুরত্বপূর্ণ মনে করে।

    ✯ পারলে নিজের বন্ধু এবং আশেপাশের মানুষদের তার সম্পর্কে ওয়াকবিহল করুন। আপনি যদি সম্পর্ক লুকিয়ে রাকাহর চেষ্টা করেন,অবিশ্বাস দানা বাঁধতে পারে যেকোনো সময়।

    ✯ যখনি সে বলে, সে আপনাকে আপনার চেয়ে বেশী ভালোবাসে।বিরোধতা করুন।তাকে বুঝানো আপনিই তাকে বেশী ভালোবাসেন।

    ✯ প্রতি সকালে ঘুম থেকে উঠার আগেই তাকে এসএমএস দিন।নতুন একটি দিনের শুভকামনা করুন।

    ✯ তাকে কোনো কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ মনে হলে জানতে চান। যদি সে বারবার না বলতে চায়, তাকে শক্ত করে ধরুন! বলুন, তাকে আপনি ভালোবাসেন। যতোযাই হোক

    গল্প করুন তার সাথে

    না কেন, তাকে আপনি কখনো দু্ঃখী করবেন না।

    ✯ নিজের পাসওয়ার্ড বা ব্যাক্তিগত তথ্য তাকে জানান। যা তাকে বুঝতে সাহাযয় করবে, আপনি তাকে বিশ্বাস করেন।

    ✯ রোজ যেরকম টেক্সট মেসেজ, বা ফোনে যেমন কথা বলেন। তাকে বলুন, সেরকম কথা বলে ভয়েস রেকর্ড করে আপনাকে পাঠাতে,যাতে রোজ আপনি শোয়ার আগে শুনতে পারেন।

    ✯আজকেই ওয়ার্ডপ্রেস বা কোনো ব্লগস্পট বা নানান ফ্রি ওয়েবসাইট ওপেন করা যায় এমন সাইটগুলো যেমন উইবলী, ইউকরুল বা আরো নানান ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি ফ্রী ওয়েবসাইট খুলতে পারেন।

    সেরকম একটি ওয়েবসাইট বানান। রোজ তাকে নিয়ে লিখতে থাকুন।প্রতিদিন দেখা হওয়ার মুহূর্ত, তার ভয়েস মেইল, ছবি সাইটে তুলুন, তার জন্মদিন, বা আ্যনিভার্সারী বা বিশেষ দিনে তাকে দেখান।

    বিশ্বাসও করতে পারবেন না,সে কতোটা খুশী হবে। (খেয়াল রাখুন,যাতে সাইটটি প্রাইভেট থাকে,যদি না কারো সাথে শেয়ার করতে চান)

    উপরের বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। সত্যিকার ভালোভাসলে খুব একটা কঠিন হবে না। আরো বিষয়গুলো নিয়ে পরে একদিন নাহয় আলাপ করা যাবে। ততোদিন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে তাকে বোঝান, তাকে কতোটা ভালোবাসেন।

    Read more »
RSS